এই গল্পটা সত্যিকারের গল্প … একদম সত্যিকারের গল্প … কোন এক অদ্ভূত কারণে বাংলাদেশের আর দশজন টিপিকাল বাবা-মা এর মত আমার বাবা-মা ও চাইতো, তাদের একমাত্র মেয়েটা ডাক্তার হোক … আমি আমার আপু কে দেখতাম … তার বায়োলজি ভালো লাগতো ঠিকই, কিন্তু ডাক্তার হওয়ার জন্য মিনিমাম প্যাশন তার মধ্যে ছিল না !!

পরীক্ষার আগের রাতে আপুর কোচিং সেন্টারের এক ডাক্তার ফোন করে জানায়, ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে তার কোচিং এ রাতে আসলে নাকি সে প্রশ্ন দিবে এবং সেগুলা ওখানে বসেই সলভ করাবে এবং ভোরে গাড়িতে করে পরীক্ষার হলে দিয়ে আসবে !!

৫ লক্ষ টাকা দেয়ার সামর্থ্য আমার বাবার ছিল না … সামর্থ্য যদি থাকতোও, তাও এই চুরির রাস্তায় জীবনেও আমার বাবা-মা তাদের মেয়েকে পাঠাইতো না … বাসায় বসে নরমালি পড়াশুনা করে আমার আপু পরীক্ষা দিলো … তার কোথাও চান্স হয় নাই !!

একটা সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে দৃশ্য মনে হয় বাবা-মা কে কাঁদতে দেখা … এই দৃশ্য দেখার পর কোন সন্তানের মাথা ঠিক থাকে না … কোন একটা পরীক্ষায় ব্যর্থ হ

ওয়ার পর এরকম কিছু ফেইস করেই একটা ছেলে বা মেয়ে হতাশা, ডিপ্রেসনে ভুগে এবং সুইসাইড করারও চেষ্টা করে !! আমার আপুকে আমি দিনরাত কাঁদতে দেখছি … আমার আম্মা একদম চুপ হয়ে গেছিলো … সেদিনের এতটা কষ্টের মাঝে, স্বপ্নভঙ্গের মাঝে আমার আপু সুইসাইড অ্যাটেম্পট নিলেও অবাক হইতাম না !! ঢাবি এর ক ইউনিটের অ্যাডমিশন টেস্ট ছিল মাত্র ১০ দিন পরে … মেডিকেলের প্রিপারেশন নেয়া একটা স্টুডেন্ট এর জন্য মাত্র ১০ দিনে ঢাবির প্রিপারেশন নেয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল … আমার আপু চোখ মুছে পড়া শুরু করলো … ঠিক ১০ দিন !!

“MIRACLE” বলে কিছু আছে, এইটা আমি বিশ্বাস করলাম ঢাবির রেজাল্টের দিন … মাত্র ১০ দিনের প্রিপারেশনে আমার আপু ৫০০ তম মেরিট পজিশন পেয়ে ঢাবিতে চান্স পাইলো … ১০ দিনের ব্যবধানে একটা পরিবারের সব কান্না মুছে গেলো … মুদ্রার এই পিঠ এবং ঐ পিঠ দুইটাই দেখা হইলো !!

আমার আপু বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করলো … আঁকাআঁকি এবং ডিজাইনিং এর উপর অনেক বেশি ঝোক থাকার জন্য নিজেই ওয়াল পেইন্টিং এর কোম্পানি খুলে বসলো, নাম দিল Artista !!

গতকাল আমার আম্মা ফোন করে খুব খুশি খুশি ভাব নিয়ে বললোঃ “জানিস, তোর আপু কি আকাজ করে বসছে ??”

আমি বললামঃ “কি আকাজ ??”

আম্মা হাসতে হাসতে বললোঃ “আমার ফ্রিজটা নষ্ট হয়ে গেছিল … ঈদ উপলক্ষে সে আমাকে এইমাত্র একটা ফ্রিজ গিফট করছে … কেমন লাগে বলতো !!”

আমি ফোনের এই পাশ থেকে টের পাচ্ছিলা, আম্মু হাসতেছে এবং তার চোখের কোণে এক ফোঁটা আনন্দের অশ্রু চিকচিক করতেছে … একজন সন্তান যখন বাবা-মা এর আনন্দের অশ্রুর কারণ হয়, তখন তার বেঁচে থাকাটা সার্থক হয় !!

… … … আজকে মেডিকেলের রেজাল্ট দিলো … প্রশ্ন ফাঁসের নিষ্ঠুরতায় সত্যিকারের কষ্ট করা অনেক ছেলেমেয়ের স্বপ্ন আজকে ভেঙ্গে গেছে … অনেকগুলা পরিবারের বাবা-মা আজকে কাঁদছে … খুব বাজে একটা সময় এইটা … খুব বাজে !! কোন সাহিত্যিক সান্ত্বনা দিলাম না … নিজের পরিবারের উদাহরণ দিলাম, সত্যিকারের গল্প বললাম … তুমি যদি সত্যিকারভাবে পরিশ্রম করে থাকো, তোমার যদি মেধা থাকে, তোমার মধ্যে যদি প্যাশন থাকে এবং তোমার ভেতর যদি সততা থাকে…

আজকের এই চোখের পানি মুছে ফেলো … সামনে যত সুযোগ আছে, কাজে লাগাও … হ্যাঁ হয়তো অনেক সেকেন্ড টাইমারের আর সুযোগ নাই, সেই ক্ষেত্রে অন্য কোন না কোন জায়গায় যেভাবে পারো ভর্তি হও … কষ্ট করো … ট্রাস্ট মি, একদিন না একদিন তুমি পারবা !!

আজকে তুমি তোমার স্বপ্নের জায়গায় যাইতে পারো নাই … আজকের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে গেছে হয়তো … কিন্তু তার মানে এই না যে স্বপ্নের জায়গায় পৌছানোর সবগুলা রাস্তাই বন্ধ হয়ে গেছে … উহু !! আরো অনেক সময় আছে … অনেক রাস্তা আছে … তুমি একটু ধৈর্য্য ধরো … একটু অপেক্ষা করো … একদিন না একদিন তুমি এই কষ্টের অশ্রুগুলাকে আনন্দের অশ্রু বানিয়ে ফেলতে পারবা … হয়তো আজকে পারো নাই, হয়তো এই রাস্তায় পারো নাই … কিন্তু একদিন পারবা … অন্য কোনদিন অন্য কোন ভাবে নিশ্চয়ই পারবা !! There is always a HAPPY ENDING … If it’s NOT HAPPY, It’s NOT THE END !!”

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s