প্রতিবছরই বার্বিডল এর ছবি প্রোফাইলে দিয়ে কিছু স্মাট বালিকার উদ্ভব হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পরিচয় দেওয়ার দৌলতে এবং নামগুলো দেখে চেনার কারনে কয়-এক জন কে আমার ক্ষুদ্র ফ্রেন্ডলিষ্ট এ মাঝে মাঝে তালিকাভুক্ত করতে হয় ।

কিন্তু তাদের ছবিতে কখনো লাইক কমেন্ট করা হয় না নটিফিকেশন নামক ভয়াল খোচার ভয়ে। দুই দিন পর পর তারা কুত্তা, বিলাই এবং বার্বি সহ নানান জাতের অজাতের ছবি আপলোড করে । তাদের কুত্তা আর বিলাইদের চেহারা দেখতে হয় বলে আনেক সময় আইডি গুলো আনফলো করেই রাখি।

সেইসব দুই একটা আইডি আমার সাথে MUTUAL থাকার কারনে , অদ্ভুত ভাবে ই আমার স্কুল এবং কলেজ লাইফের স্মাট/ভদ্র/চুপচাপ কিছু ছেলে বন্ধুরা, নানান ভাবে ইনবক্স করে, যেমন, ♧দোস্ত ওমুক আইডিটা কার ? =সে নিজেই বিলাই কুত্তার ছবি দিয়া নিজেরে আড়াল করচে , আমি তার পরিচয় বলবো কোন দুঃখে!!!

♧মেয়েটা তো ছবি দেয়নাই, সুন্দর আছে নাকি”??

=তোর চোখে সুন্দর্যের সংঙ্গা এক রকম আমার চোখে অন্য রকম আমি কি ভাবে তার বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ণনা করবো তা আমার জানা নেই ।

♧আমি-না তোর স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড”’, প্লিজ আমার কথা বলিস ।

=কোনোদিন তো খবর ও নিস না, এখন দোস্ত হই গেলাম । তোর কথা কি বলব কোন উদেশ্য নিয়ে বলব?

অতপর , বার্বিধারি আইডিগুলোর কোন ইনফর্মেশন আমার কাছ থেকে না পাওয়ার কারনে । আমি তাদের দুই এক জন এর কাছে অনেক ফালতু ফাজিল হয়ে যাই ।

দুই থেকে তিন মাসের মদ্ধে সেই সব বর্বি আপুরা নিজেদের চেহারা আত্বপ্রকাশ ঘটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । একদিন চোখে পরে । আত্ন গোপনে থাকা আপুটা বিভিন্ন পোস এ ছবি আপলোড করে প্রাইভেসি পাবলিকে দিয়ে ।

এবং আশ্চর্য বেপার হল ছবি ট্যাগ করা থাকে সেই যুবক গুলোর সাথে, যারা এক মাস পূর্বেও আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা আপুটার পরিচয় জানতো না ।

একমাসের মধ্যয়েই এমন খাতিল হয়ে গেল যে এক মাস পূর্বের অপরিচিত ছেলেটির কমেন্টস এ আপুটার ছবি / মন খারাপের স্টেটাস্/ডাস্টবিনের সাথে সেলফি সব একাকার হয়ে যায় ।

~ এক দিন হটাৎ আপুটার সাথে দেখা__ কৌতুহল বসত জানতে চেয়ে ফেল্লাম ”’কি রে তুই কি ‪#‎ওমুক‬ কে চিনিস” হ্যা, না গুলিয়ে উত্তর পাই । তার পর শুনতে হয় মহান সত্য ওরে ছবি ট্যাগ করলে অনেক লাইক আসে । আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রই । চোখের উপর ভাসতে থাকে__ কি লজ্জাবতিই না ছিল এই বার্বিটা । রাস্তায় হাটার সময় মাথার ঘোমটা কত্ত বার কপালে টেনে দিত। আর এখন তার কপাল জুরে লাল-খয়েরী রগ্ঙের চুলেরা খেলা করে ।

=তুই এই জন্য ট্যাগ করিস??? ♧আরে বাদ তো , দেখতো আমার হেয়ার স্টাইলটা কেমন হইচে ? লাক্স এ যাবো ভাবছি । অতপর, আমার বলার কিছু ছিল না । কিছু বলা উচিৎ ও না ।

এখানেই শেষ নয় ।

□কয় দিন পর আবার ইনবক্স !!!!!!

স্কিনশট না কি বলে ওটাকে !!! ♧”””মোবাইলের পর্দায় বার্বি আপুটার সাথে আমার কলেজের সবচেয়ে চুপচাপ ছেলেটার কথোপকথন”’ , ☆আমাকে আবার প্রশ্নও করা হল ।

”’ও এমন এমন বলচে কি উত্তর দি বল তো” =আমি উত্তর না দিয়ে চুপচাপ অফলাইনে চলে যাই ।

□এবার আমার স্কুল ফ্রেন্ড টার মেসেজ আসলো , ♧তুইতো সেদিন আমার কথার পাত্তাই দিলিনা ওরে আমার কথা বলিসই নাই। এই দেখ আমার সাথে তো ভালোই ফ্রেন্ডশীপ হইল ।

=ও ভালোই তো ফ্রেন্ডশীপ তো হতেই পারে ।

♧আরে সবে তো ফ্রেন্ডশীপ করলাম দেখবি কয়এক দিনের মদ্ধেই ও আমার প্রেমে পরে যাবে ।

□আর কিছুদিন পর কলেজের এক পাতি নেতার মেসেজ ”ছবি সহ” । ♧তোর ফ্রেন্ড না মেয়েটা ? আনেক সুন্দর চোখ দেখচিস !!

=মহান আল্লাহ ‘তালার সৃষ্টি । ♧ভালোই লাগে তাই না রে !!! আনেক চেট হয় ওর সাথে ।

=তাই না কি …..

♧ হ , তুই তো পাত্তা দিলি না। দেখলি কত্ত সুন্দর মাইয়ার সাথে….. এভাবেই তাদেরকে ছোট্ট একটা বার্বিডল তার এক আগ্ঙুলের উপর নাচাতে থাকে ………….. সবাই বার্বিটাকে নিয়ে তাদের মত করে আগাতে থাকে ।

এখন আর বার্বিগুলোর খবর জানিনা । ”’শুনেছিলাম সবচেয়ে সুন্দরী বার্বিডল টা মডেল হওয়ার লম্বা শিড়ি লিফ্টের গতিতে পার হওয়ার সটকাট রাস্তা পেয়েছে।

আর এক টা বর্বিআপুর কোলে একটা বাচ্চাও আছে । আমেরিকা প্রবাশী বর পেয়েছে ।

কিছুদিন আগে স্কুল ফ্রেন্ডটার সাথে আনিচ্ছা সত্বেও দেখা হয় হটাৎ কথায় কথায় বলে ফেললো __

♧আমার আগেই বুঝা উচিৎ ছিল তোরা সব মেয়েরা একই রকম ।

(বুঝতে বাকি রইলনা তার বার্বি এংরি বার্ড হয়ে উড়াল দিয়েছে) =অনেক জোর নিয়ে উত্তর দিলাম ”একটা মেয়ের জন্য কি তুই সব মেয়েকে দোষ দিবি না কি ? আমি কি করচি তোর সাথে । পারলে ওরে গিয়ে কিছু বল। এত দিন তো আমি তোদের মঝে কিছু বলি না । আজকে আমাকে দোষ দিচ্ছিস কেন ?”

”পাতি নেতা”’ টা সামনের পাতি শব্দটা বাদ দিয়ে নেতা হতে পারে নি । নেতা শব্দটা গুটিয়ে পাতির পেছনে গুন্ডা যোগ করেছে অর্থাত সে এখন শহরের পাতিগুন্ডা। এক বার্বির হাতে ছেক্ খেয়ে সে এখন শহরের হাজার সহজ সরল ললনাকেও বার্বির মত মনে করে । তার জীবনে সেই বার্বি না এসে এমন একটা ললনা আসলে হয়তো সে সুন্দর পথে হাটতো। এক দিন খবরের কাগজ খুলে দেখি আমার সেই কলেজ ফ্রেন্ডটার দেহ নিরশ শিথিল ভাবে কাগজে লেগে আছে । ”স্পষ্ট মনে আছে আমার, একদিন কলেজের সামনে একটা এক্সিডেন্ট এ এক বাচ্চার রক্তক্ষরন দেখে ও অঝোঁরে কেঁদেছিল । ও তো সামান্য রক্তও সহ্য করতে পারতো না। ওর মত ছেলে এমন কাজ করলো কি করে । খবরের হেড লাইন টা ছিল এমন, ”মায়ের শাড়ি গলায় পেচিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ”’আ……….”

আমি আর পড়তে পারিনি । কারন আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম আন্টির শাড়ির আঁচল দিয়ে ও কপালে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছতো , একটু বকা খেলেই চোখের জল মুছতো। তার পর আন্টি খাইয়ে দেয়ার সময় ঠোটের কোনায় লেগে যাওয়া ঝোলগুল কত্ত বার মোছা হয়েছে এই শাড়ির আঁচল দিয়ে ।

না আমার ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ ছেলেটা এই ভাবে আঁচলের অপব্যবহার করতে পারে না ।

সে তো একটা লাল টুকটুকে আঁচলের সন্ধান করেছিল যে আঁচলে তার সন্তানরাও মুখ মুছতে পারতো, সেই আঁচলধারী রমনী তার আঁচল দিয়ে চোট্ট বাবুটার মুখে লেগে থাকা ঝোল মুছে দিত আর চুপচাপ বড় বাবুটাও সেই রমনীর আঁচলে হারিয়ে যেত।

সে তো এমন স্বপ্ন দেখতেই পারে। আর কিছুদিন পরই আমার কলেজের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটা যে কিনা সবসময় চুপচাপ থাকতো তার বিশ্ববিদ্যালের চৌকাঠ পার হওয়ার কথা ছিল । তার পর ই তো একটা ব্যবস্থা হয়ে যেত।

এত তাড়া ছিল তার বার্বিটার ? সে আমেরিকা সিটিজেনশীপ এর লোভ সামলাতে পারলো না ।

যার জন্য চুপচাপ ছেলেটা আঁচলের আপব্যবহার করলো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s